দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থা IndiGo–র (ইন্ডিগো) একের পর এক ফ্লাইট বাতিলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। গত তিন দিন ধরে টানা পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার এক দিনেই ৬০০-রও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার বাতিল করা হয়েছিল প্রায় ৫৫০টি ফ্লাইট। এর জেরে হাজারে হাজারে যাত্রী চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দরেও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ চরমে। বহু যাত্রী অভিযোগ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করলেও নির্দিষ্ট করে জানানো হচ্ছে না কখন বিমান ছাড়বে। পর্যাপ্ত খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও হচ্ছে না বলে অভিযোগ। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্যান্য বিমানসংস্থা টিকিটের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এক যাত্রী বলেন,“কয়েক ঘণ্টা ধরে বিমানবন্দরে বসে আছি, কেউ কিছু জানাচ্ছে না। জল-খাবারের ব্যবস্থাও নেই। খুব অসহায় লাগছে।”আর এক যাত্রীর বক্তব্য,“হুট করে ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এখন অন্য এয়ারলাইনের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। কোথায় যাব, কী করব—বুঝতে পারছি না।”কেন এই বিপর্যয়?ইন্ডিগোর এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা DGCA–র নতুন নিরাপত্তা বিধি—এই বিধি অনুযায়ী—প্রতি সপ্তাহে পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জন্য ৪৮ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক বিশ্রাম, সপ্তাহে এক জন পাইলট সর্বোচ্চ ২টি নাইট ল্যান্ডিং করতে পারবেনপরপর দু’দিন নাইট ডিউটি, সপ্তাহে একবারের বেশি নয়.এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে। কিন্তু বিমানসংস্থাগুলির অনুরোধে তা বারবার পিছিয়ে যায়। সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে DGCA বাধ্য হয় নিয়ম বাস্তবায়নে। জুন ও নভেম্বর মাসে ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম কার্যকর করা শুরু হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো দায় একতরফা DGCA বা কেন্দ্রীয় সরকারের নয়। এই নিয়ম যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয়। তবে এয়ারলাইন সংস্থাগুলির আগাম পরিকল্পনার অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মত তাদের।বিমান বিশেষজ্ঞদেরর কথায়—“নতুন নিয়ম আসবে, এটা জানা ছিল বহু আগে। কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। ফলে হঠাৎ করে ক্রু-সংকটে প্রচুর ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না।এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে—সাধারণ যাত্রী উত্তর-পূর্ব রাজ্যের যাত্রীরা, বিশেষ করে ত্রিপুরার। বর্তমানে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে যাত্রীদের দাবি, শুধু বার্তা নয়—ব্যবহারিক সহায়তা প্রয়োজন এখন।.

