22 C
Agartala

হার না মানার জেদ ই সফলতার অন্যতম হাতিয়ার, বললেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার গৌতম সরকার

Published:

১৯৭১ সাল তখন। জুনিয়র ইন্ডিয়া টিমের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিলেন। তবে হতাশ হন নি। ময়দানে কঠোর থেকে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গেলেন। এরপর সরাসরি ভারতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক হলেন। তিনি আর কেউ নন ভারতীয় ফুটবলে যিনি ব্যাকেন বাওয়ার নামে পরিচিত ইনি সেই গৌতম সরকার। বর্তমানে তিনি রয়েছেন আগরতলায়। এর আগেও কয়েকবার তিনি এসেছেন ত্রিপুরা রাজ্যে। তবে এবার এলেন রাজ্য ফুটবল সংস্থার আমন্ত্রণে রাখাল শিল্ড ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বিশেষ অতিথি হিসেবে। বয়স প্রায় ৭১ বছর হলেও আজও সেই দামাল ছেলের মতোই গৌতম বাবু দৃঢ়ে চেতা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি প্রতিবেদককে বললেন, ফুটবলকে কেউ কোনোদিনই মুছে দিতে পারবে না। কেননা ফুটবল মানেই দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের হয়ে বহু ম্যাচ খেলেছেন তিনি। বহুবার এই দুই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। পশ্চিমবাংলায় গৌতম সরকার মানেই ফুটবলে একটা অনবদ্য ব্র্যান্ড। ১৯৮৯ সালে গৌতম সরকার প্রথম এসেছিলেন আগরতলায় বাংলার কোচ হিসেবে। উমাকান্ত মাঠেই তার তত্ত্বাবধানে বিহারকে হারিয়েছিল তার দল। তখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্ট জোন। এরপরও বেশ কয়েকবার আসা হয়েছিল উনার ত্রিপুরায় তবে এবার বিশেষ অতিথি হিসেবে আসার পর তার মনে প্রানে একটা আলাদা আনন্দ লক্ষ্য করা গেল। তিনি প্রতিবেদককে বললেন, আগরতলার সঙ্গে উনার মনের টান রয়েছে। ভারতীয় ফুটবলের প্রসঙ্গ নিয়ে উনার সঙ্গে কথা বললে তিনি বললেন ,এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবল যে জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তবে বর্তমানে ভারতীয় ফুটবল তুলনার চেয়ে অধিকাংশ বিদেশি নির্ভর হয়ে গেছে। বিদেশি কোচদের এনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে ফুটবল ফেডারেশন। এটার পরিবর্তে যদি ভারতীয় কোচদের ভালোভাবে তৈরি করা যায় তাহলে হয়তো এই সমস্যাটার অনেকটাই লাঘব হবে। বিদেশি নির্ভরতার ঘোর কাটাতে হবে, তবেই সফলতা নিশ্চিত। একই সঙ্গে তিনি বললেন, হতাশার কোন জায়গা নেই ফুটবলে। ফুটবল কিংবা যেকোন ইভেন্টে খেলোয়ারদের কোন সময়ই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে চলবে না। জীবনের সঙ্গে সময়ের পাল্লাতে নিজেকে রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তবেই আগামী দিনে সফলতা নিশ্চিত। একদমই প্রাণ খোলা মানুষ এই গৌতম সরকার। পেশাগত টানে ওনার ইন্টারভিউ করার সময় ঘড়ির কাটাতে তাকাবার ইচ্ছেই করছিল না।গৌতম সরকারও একই মুডে ছিলেন। দুবার ওনার মোবাইলটা বেজে উঠলো। মুঠোফোনটা হাতে নিয়ে তিনি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা আবার বন্ধ করে দিলেন। ফুটবল নিয়ে করছিলেন আলোচনা। তাই এতে বিভ্রান্তির কোন অবকাশ না ছিল ওনার কাছে না ছিল প্রতিবেদকের কাছে। ৪৮ মিনিট গৌতম সরকার করলেন প্রতিবেদকের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে কথোপকথন। তবে কিভাবে যে কেটে গেল এই ৪৮ মিনিট তা বোঝাই গেল না। ফুটবলান্ত প্রাণ এই ব্যক্তিটির সঙ্গে আলোচনা করে অনেক কিছু অনুভব করা গেল।

advertisement

পরবর্তী খবর

- Advertisement -